ফ্লোর ও টাইলস পরিষ্কার — গ্রাউট কালো হয়ে যাওয়ার আসল কারণ
19 Sep 2026 · 0 বার পঠিত
ঢাকার ফ্লোরের উপর দিয়ে যায় রাস্তার ধুলো, বর্ষার কাদা আর সারা বছরের চলাচল। অনেকে নিয়মিত মোছেন, তবু টাইলস ম্যাড়মেড়ে আর ফাঁকগুলো কালো — কারণ সমস্যাটা পরিশ্রমে নয়, পদ্ধতিতে।
এক বালতির ভুল
মপ ডুবিয়ে এক জায়গা মুছে আবার সেই একই পানিতে ডোবালেন — এরপর থেকে আপনি পুরো ফ্লোরে ময়লা পানি ছড়াচ্ছেন। শুকিয়ে সেটা একটা পাতলা আস্তরণ তৈরি করে, সেই আস্তরণ ধুলো টানে, আর মোছার পরদিন ফ্লোর আগের চেয়েও খারাপ দেখায়।
দুই বালতি ব্যবহার করুন — একটায় ক্লিনার, আরেকটায় পরিষ্কার পানি। মপ সবসময় আগে পরিষ্কার পানির বালতিতে ধুয়ে তারপর ক্লিনারে ডোবান। যেকোনো দামি প্রোডাক্টের চেয়ে এই একটা পরিবর্তনে বেশি পার্থক্য হয়।
আরও দুটো অভ্যাস: আগে ঝাড়ু বা ভ্যাকুয়াম (বালির উপর মপ চালালে সূক্ষ্ম আঁচড় পড়ে, আর সেই আঁচড়েই ফ্লোর স্থায়ীভাবে ম্যাড়মেড়ে হয়), আর ক্লিনার কম দিন, বেশি নয় — বেশি দিলে ধোয়া যায় না, আঠালো হয়ে ধুলো ধরে।
আসল সমস্যা গ্রাউট
গ্রাউট ছিদ্রযুক্ত। ময়লা পানি ভেতরে ঢোকে, আর আমাদের আর্দ্রতায় সেখানে ছত্রাক জন্মায়। প্রথমে ধূসর, তারপর কালো — আর মুছে সেটা আর ফিরবে না, কারণ ময়লা উপরে নয়, ভেতরে।
- বেকিং সোডার পেস্ট আর শক্ত ব্রাশ — হালকা দাগে কাজ করে, তবে পরিশ্রম বেশি।
- অক্সিজেন ব্লিচ ১৫ মিনিট রেখে ব্রাশ — ছত্রাকে ক্লোরিন ব্লিচের চেয়ে ভালো, রঙিন গ্রাউটের রং নষ্ট করে না।
- স্টিম বা রোটারি মেশিন — বছরের পর বছরের জমাট ময়লা এতেই ওঠে।
- শেষে সিল করুন। সিল না করলে কয়েক মাসেই আবার কালো — এই ধাপটাই সবাই বাদ দেন।
ফ্লোর ভেদে আলাদা নিয়ম
- সিরামিক ও পোর্সেলিন — সহনশীল, সাধারণ নিউট্রাল ক্লিনারেই চলে।
- মার্বেল ও পাথর — কখনো অ্যাসিড নয়। ভিনেগার, লেবু বা কড়া বাথরুম ক্লিনার মার্বেলে সাদা ম্যাড়মেড়ে দাগ ফেলে যা শুধু পলিশ করেই তোলা যায়।
- মোজাইক — পুরনো ঢাকার ভবনে সাধারণ। নিয়ম মার্বেলের মতোই।
- কাঠ ও ল্যামিনেট — শত্রু হলো পানি। ভেজা নয়, স্যাঁতসেঁতে মপ, আর পেছনে পেছনে মুছে শুকিয়ে দিন।
বর্ষাকাল
জুন থেকে সেপ্টেম্বর দরজার কাছের ফ্লোরে পুরো রাস্তার কাদা আসে। দুটো কাজের কথা: দরজার ভেতরে-বাইরে ভালো শোষক ম্যাট, আর সন্ধ্যায় একবার শুকনো মপ। আর ভিজে যাওয়া কার্পেট সাথে সাথে তুলুন — দুই দিন ভেজা কার্পেট টাইলসের উপর থাকলে নিচে ছত্রাকের ছাপ পড়ে যায়, যেটা তোলা কঠিন।
রুটিন
- প্রতিদিন — চলাচলের জায়গা ঝাড়ু বা ভ্যাকুয়াম।
- দুই-তিন দিনে — দুই বালতিতে মোছা।
- মাসে — রান্নাঘর ও বাথরুমের দরজার গ্রাউট ব্রাশ, এখানেই আগে কালো হয়।
- বছরে একবার — পুরো বাসার গ্রাউট মেশিনে পরিষ্কার ও সিল।
পুরো বাসার গ্রাউট কালো হয়ে গেলে বা নতুন ফ্ল্যাটে উঠলে হাতে ঘষে কুলানো যায় না। ফ্লোর ও গ্রাউটের কাজ আমাদের ডিপ ক্লিনিং সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত — স্ক্রাবার, এক্সট্রাকশন ও সিলিং, স্কয়ার ফুট হিসেবে ৳২ থেকে।
নতুন বাসায় উঠছেন? আসবাব ঢোকার আগে পুরো বাসা পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া পরে করানোর চেয়ে সস্তা ও ভালো।
অনলাইনে বুক করুন অথবা কল করুন +880 1719-950059।